Bangla Ghost Story | Bangla Ghost Story 2024
ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ভুতের গল্প
ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ভুতের গল্প | Bangla Ghost Story :
চাকরির মন্দা বাজারে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউই হয়নি রাহুল দের ফাইনাল ইয়ারে। ফলে B. Tech পাশ করে প্রায় দেড়টা বছর বসে থাকতে হয়েছে ওকে। সে এক বিচ্ছিরি চাপ তখন... বাবা-মা বলছে না কিছুই তবু যেন ওই না বলাটাই অনেক কিছু বলে দিচ্ছে! শেষে অঙ্ক ক্যাম্পাসে যখন এই চাকরিটা হলো... হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো রাহুল।
বেশ নামকরা গ্রুপ... ট্রেনিং পিরিয়ডে থাকতে হবে প্রথম একটা বছর... স্টার্টিং স্যালারিটাও মন্দ নয়... তার ওপর আবার থাকার ব্যবস্থাও দেবে... ঠিকই আছে! শুধু মনটা খচ খচ করছে একটাই কারণে... সব কিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে বাইরে.... সেই নাসিক ... বোম্বে থেকে প্রায় 3 ঘন্টার জার্নি নাকি আবার। যাবার টিকিটও কাটা হয়ে গেল... জ্ঞানেশ্বরী সুপার ডিলাক্স এক্সপ্রেসের AC 3 তে।
দেখতে দেখতে যাবার দিন এসে গেল। দুদিন আগেই দিদি চলে এসেছে... একটি মাত্র ভাই বলে কথা... অতো দূরে চলে যাবে... এরপর কবে ফিরবে তার এখনো ঠিক নেই! রাতে খাবার টেবিলে কথায় কথায় জামাইবাবুই বুদ্ধিটা দিলো -
[bangla ghost story 2024]
- "আরে... তুমি আবার খামোখা লোকমান্যতিলক অবধি যাবে কেন... জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের তো ইগতপুরীতে স্টপেজ আছে। ওখানে নেমে যেও। ওখান থেকে নাসিক hardly 1 ঘন্টা হবে। তা নাহলে মুম্বাই ঘুরে নাসিক যেতে হলে 3-4 ঘন্টা লেগে যাবে কিন্তু।”
-
- “কিন্তু জামাইবাবু, তখন তো রাত... আলো ফুটবে না... গাড়ি টাড়ি পাবো ওই সময় কিছু?”
- "আরে মুম্বাইতে 24 ঘন্টা ব্যস্ততা... ওখানে দিন আর রাতের কোনো তফাৎ নেই। বরং তুমি ইগতপুরীতে নেমে, ফ্রেশ হয়ে একটা cab নিয়ে সোজা অফিস চলে যেও। তারপর তো বলেছে সব HR এর দায়িত্ব। আর কি চিন্তা!”
আইডিয়া টা সবারই পছন্দ হলো... ফলে যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। জামাইবাবুই অনলাইনে বুক করে দিলো মুম্বাই-নাসিক এক্সপ্রেস ওয়ের ওপরে “মেনকা মোটেল ... ইগতপুরী স্টেশন থেকে নাকি মাত্র 10 মিনিট লাগবে পৌঁছতে।
[ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ]
যথা সময়ে ট্রেন ছেড়ে দিলো হাওড়া থেকে রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে। দলাপাকানো কান্না আর অনিশ্চিত সামনের দিনগুলোর জন্য ভয় ভয় ভাবনা বুকে নিয়ে রাহুল ছুটে চললো ভবিষ্যতের দিকে। হু হু করে পেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন খড়গপুর, টাটানগর, বিলাসপুর ...
পরের দিন রাতে তাড়াতাড়ি প্যানট্রির খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লো রাহুল। টিটির থেকে ইতিমধ্যেই জেনে নিয়েছে - ট্রেন মাত্র 30 মিনিট লেটে দৌড়োচ্ছে... তার মানে রাত তিনটে নাগাদ ইগতপুরী পৌঁছে যাবে ও। ওই রাতে... একা নতুন জায়গায়... কে জানে কি আছে কপালে!!!
[bangla bhuter golpo]
CST-
“ভাইয়া... আপকা ইগতপুরী আনে বালাহে অভি... উঠিয়ে - টিটির ধাক্কায় হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠে পড়লো রাহুল। চোখের পিচুটি পরিষ্কার করে তিনতলার বার্থ থেকে নেমে সুটকেস, পিঠের ব্যাগ সব নিয়ে ঠান্ডা কম্পার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো। ট্রেনের গতি কমে এসেছে... হয়তো স্টেশন আসছে বলেই। বাইরে এক নাগাড়ে কিসের যেন একটা শব্দ হয়ে চলেছে। এই সর্বনাশ... বৃষ্টি হচ্ছে বোধহয়! কেলেঙ্কারি করেছে... ছাতাটা কোথায় যেন দিদি ঢোকালো!
বেসিনের সামনে সুটকেস খুলে ছাতা বার করতে করতেই ট্রেন ঢুকে গেল স্টেশনে ... দরজা খুলে বাইরে তাকিয়ে বুকের মধ্যেটা ধক করে উঠলো রাহুলের। ঘুটঘুটে অন্ধকার স্টেশন... একটা আলোও জ্বলছে না... তার মধ্যে অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। অবস্থা দেখে দরজা লক করতে এসে টিটি বাবুর ও যেন করুণা হলো রাহুলের ওপর... “বেটা সামালকে ... জাগহা আহা নেহি হে”।
[ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ভুতের গল্প]
অন্ধকারে চোখটা সেট করে লাগেজ গুলো নামিয়ে শেডের তলায় যেতে যেতে প্রায় পুরোটাই ভিজে গেল রাহুল। অবাক কান্ড... ও ছাড়া আর একজনও কেউ নামেনি ট্রেন থেকে ... সারাটা প্লাটফর্মে একটা কুকুর বাদ দিয়ে কেউ নেই যেন। কালো কুকুরটাও জুলজুল করে দেখছে রাহুলকে... ও-ও অবাক হয়েছে মনে হয়! হঠাৎই ঘ্যাচাং করে শব্দ তুলে ট্রেনটা ছেড়ে দিল। একটার পর একটা কম্পার্টমেন্ট পেরিয়ে গেল চোখের সামনে দিয়ে রাহুলের... আর ট্রেনের শব্দটা দূরে মিলিয়ে যেতেই বৃষ্টির শব্দ ছাড়া কিছু নেই। হঠাৎ করেই শীত করতে শুরু করেছে রাহুলের। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা ও.. এখানেই আলো ফোটা অবধি অপেক্ষা করবে, নাকি বৃষ্টি মাথায় নিয়েই স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখবে যদি কোনো গাড়ি টাড়ি পায় "মোটেলের র উদ্যেশ্যে।
[bangla ghost story 2024]
একটু যেন কমলো বৃষ্টিটা... ঠাওর করে ওভার ব্রিজ খুঁজে স্টেশনের বাইরে এলো রাহুল। দূরে একটা আলোর দেখা পেয়ে সমস্ত লাগেজ নিয়ে ওদিকেই হাঁটা শুরু করলো ও। একটা ATM Counter... কাছে গিয়ে স্বস্তি এলো বুকে। দু-তিন জন মাথা থেকে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে ATM এর মধ্যে। দুটি সারমেয়ও বিদ্যমান। ATM এর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই কুকুর গুলো এবং তার থেকেও বেশি চাদর চাপা মানুষ গুলো খেঁকিয়ে উঠলো। সত্যি বলতে কি জায়গাও নেই ভেতরে আর।
ফলে অগত্যা বাইরেই দাঁড়াতে হলো ওকে। এমন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিটা মিনিট যেন এক এক ঘন্টার সমান লাগছে... তার মধ্যে শুরু হয়েছে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো। এক সময় দূর থেকে একটা গাড়ির হেডলাইট দেখা গেল...ইস... যদি পাওয়া যায় গাড়িটাকে ... atleast মোটেল নাকি হোটেল... পৌঁছে শুকনো জামা-কাপড় তো পরার সুযোগ পাবে... তা নাহলে ঠান্ডা হাওয়ায় জমে যাচ্ছে তো ও!!!
একটা Auto... ATM এর সামনে এসে দাঁড়ালো। চেঁচিয়ে উঠলো রাহুল -
[bangla ghost story ]
-"আরে ভাইয়া, মেনকা মোটেল জায়েঙ্গে?”
ওই বৃষ্টিতেই Auto থেকে মুখটা বাড়িয়ে ড্রাইভার জিগ্যেস করলো -
- "কিবার বোলা?”
- "মেনকা... মেনকা। মেনকা মোটেল... উহ এক্সপ্রেস ওয়ে কি উপর জো হে না.....
-"কিতনে আদমি?”
- "মে অকেলা.... বাস
300 টাকায় রফা হয়ে আপাতত রাহুল তার প্রথম গন্তব্যের দিকে রওনা হলো। বৃষ্টিটা আবার বাড়লো যেন। কিছুটা আসতেই হঠাৎ ই কেন জানি অটোওলা আবার জিগ্যেস করলো -
- “কোনসা হোটেল বোলা?”
- "বোলা তো... মেনকা মোটেল। এক পেট্রল পাম্প হোগা... ওটার ধারে কাছেই... মানে....
কথা শেষ করার আগেই ঘ্যাচাং করে ব্রেক কষলো সর্দারজি ড্রাইভার।
-
. “আপ উও জলা হুয়া হোটেলকা বাত বলরেহে হে কেয়া!!! উষার যাকে কেয়া করেঙ্গে?"
"মানে!!!"
- 'আরে, উওতো জ্বল গেয়া দো যেহেনা পেহেলে... অব নেহি যাতে হে কই উধার। আপ উতার যাইয়ে ভাইয়া।"
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো রাহুলের। ইয়ার্কি করছে নাকি লোকটা!!! বাইরের শন শন করে বয়ে চলা ঠান্ডা।
হওয়ার মাঝেও ভেতরে ভেতরে ঘামছে ও
- “ভাইয়া... যে কলকাত্তাসে অনলাইন বুক কিয়া উও মোটেল দো দিন পেহেলেই। আপকো কুছ...
- "দেখিয়ে বাবু, যে উধার নেহি জাউঙ্গা... উতার যাও
এবার শুরু "যেতে হবে যাবোনার লড়াই। শেষমেশ সর্দারজি রাজি হলেন যেতে পাঁচশো টাকার বিনিময়ে।
ভোর চারটে তখন। একেই পশ্চিম ভারতে দেরী করে সূর্য্যোদয় হয়... তার ওপর এক নাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে... ফলে আলোফোটার কোনো লক্ষণই নেই আকাশে! সর্দারজি রাহুলকে ওর গন্তব্যস্থলের থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার আগে নামিয়ে দিয়ে, দুর থেকে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা একটা আলো দেখিয়ে উও আপকা হোটেল, যে আগে নেহি জাউঙ্গা" বলে পাঁচশো টাকা নিয়ে পালিয়েছে। রাহুল বৃষ্টি আর ছাতা মাথায় নিয়ে দুরু দুরু বক্ষে প্রায় অন্ধকার এক মস্ত অট্রালিকার সামনে এসে দাঁড়িয়ে। সামনেই গোল ভাঙা গেট....একটু আগেই বিদ্যুতের ঝলকানিতে গেটে লেখা নামটা দেখেছে ... "মেনকা মোটেল ... আর তৎক্ষণাৎ বুঝেছে ও ঠিক ঠিকানায় এলেও বেঠিক সময়ে এসেছে। সর্দারজি হয়তো ঠিক কথাই বলেছেন... পোড়াবাড়িই বটে এটা!
[bangla ghost story bangla]
যা আছে কপালে... অন্তত এই বৃষ্টি থেকে তো বাঁচা যাবে। দুরুদুরু বক্ষে বড়ো গেটটা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো রাহুল। মোরাম বেছানো রাস্তা চলে গেছে ভেতরের বারাস্পার মতো জায়গার দিকে। বারান্দার একদিকে ৪০ ওয়াটের বাল্ব জ্বলছে একটা নোংরা অগোছালো ধুলোময় টেবিলের ঠিক ওপরে। ওটাই হয়তো reception.... কেউ নেই যদিও।
"কোই হে... Hello... কোই হে কেয়া
বার চারেক ডাকার পর হঠাৎ করেই ক্যাঁচচচচচ করে আওয়াজ করে ওই টেবিলের পেছনে খুলে গেল আলো আঁধারের মধ্যে একটা দরজা... কালো অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলো বয়স্ক করে একজন... পরনে দুধ-সাদা ফতুয়া, ধুতি, মাথায় গান্ধী টুপি আর হাতে লাঠি। মুখের দিকে তাকাতেই হাড় হিম হয়ে গেল রাহুলের... মুখের বাঁ দিকটা পুড়ে গিয়ে যেমন হয়... ঠিক তেমন... চোখটা কেমন জানি বাইরে বেরিয়ে এসেছে অস্বাভাবিক ভাবে। আর ডান চোখের তলায় যন্ত একটা আঁচিল। গম্ভীর গলার প্রশ্ন উড়ে এলো রাহুলের দিকে -
-"কেয়া চাইয়ে-
ভয়ে গলা দিয়ে আওয়াজই বেরোচ্ছেনা এদিকে ওর। ঢোঁক গিলে অতি কষ্টে উত্তর দিল -
-"মেরা বুকিং থা আজ... অনলাইন বুক কিয়াথা... রাহুল ব্যানার্জী... কাল সুভা তক...
কথা শেষ করার আগেই ভদ্রলোক টেবিলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। এবার লাঠির সাথে সাথে ডান হাতে একটা হ্যারিকেন।
[ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ]
. “আইয়ে মেরা পিছে"
ককিয়ে উঠলো রাহুল - power নেহি হে ইধার?"
- "power cut হে... সামালকে আনা
হোঁচট খেতে খেতে দোতলায় উঠলো রাহুল। সামনে হ্যারিকেন নিয়ে ভুতের মতো কোনো শব্দ না করে এগিয়ে চলেছেন ভদ্রলোক। দোতলার ডানদিকের শেষ ঘরটার সামনে এসে লাঠি দিয়ে ঠেলে দরজাটা খুলে দিলেন। বিদ্যুতের আলোয় মাঝে মাঝে যেটুকু দেখা যাচ্ছে, তাতে এটুকু বুঝতে রাহুলের অসুবিধে হলোনা যে ও ছাড়া আর কোনো boarder নেই এই সারাটা ফ্লোরে। কারণ সব দরজা গুলোই খোলা.... কয়েকটা ঘরের তো দরজাই নেই সেরকম... ভাঙা-ভাঙা পোড়া-পোড়া যেন কাঠের ফালি শুধু। তবুও কাঁপা কাঁপা গলায় জিগ্যেস করেই
ফেললো রাহুল-
-"ওর কোই নেহি হে কেয়া ইধার?"
কোনো উত্তর নেই... উল্টে গম্ভীর গলায় suggestion এলো-
- আদার যাকে দরওয়াজা বন্ধ কর দেনা। পিনেকা পানি আশার মিলেগা।"
ভেতরে ঢুকে দরজার ছিটকানি তুলে দিল রাহুল। হ্যারিকেনটা দয়া করে রেখে দিয়ে গেছেন এই রক্ষে। ওই আলোতেই যা দেখা যায়, ঘরে রয়েছে একটা খাট... প্রচন্ড ময়লা তার চাদর, ততোধিক ময়লা দুটো পাতলা বালিশ, একটা চেয়ার আর টেবিল। সামনে একটা দরজা... বাথরুমের হবে। টেবিলের ওপর হ্যারিকেনটা ধিক ধিক করে জ্বলছে, ফলে লম্বা লম্বা ছায়াগুলো দেওয়ালে পড়ে নাচছে আর সর্বোপরি বিদ্যুতের ঝলকানি পর্দাহীন কাঁচের জানলা ভেদ করে মাঝে মাঝেই সারাটা ঘরে ছড়িয়ে পরে আরও যেন ভুতুড়ে করে তুলছে পরিবেশ।
[bangla ghost story bangla]
অসম্ভব... এখানে থাকা যায়৷ বুক ফেটে কান্না পেল রাহুলের। চোখের কোনাটা সবে ভিজেছে কি ভেজেনি হঠাৎই দড়াম করে আওয়াজ হয়ে খুলে গেল পেছনের দরজাটা। ঝোড়ো হাওয়া আর তার সঙ্গে ধেয়ে আসা বৃষ্টির ছাট আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনলো ওকে। তাড়াতাড়ি দরজাটা লাগাতে গিয়ে খুঁজে পেলনা ছিটকিনি..... ভেঙে বেরিয়ে গেছে... হাওয়ার দাপটেই বোধহয়। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে বুদ্ধি এলো... সুটকেসটা দিয়ে দরজাটা অতি কষ্টে আটকালো রাহুল।
মোবাইলে টাওয়ার নেই... হাতঘড়ি বলছে 4:20 am.. আর কি আছে দুর্ভোগ কপালে কে জানে! বিছানায় বসা যাবেনা এতো নোংরা... তাই অগত্যা চেয়ারে বসে পড়লো রাহুল। জামাইবাবুকে মনে মনে খিস্তি করছে। ঝড়টা কমেছে একটু। বৃষ্টির শব্দ ছাপিয়ে একটা ট্রেনের হর্নের শব্দ শোনা গেল যেন। ভীত, ক্লান্ত রাহুল তখন ভোরের প্রতীক্ষায়। হঠাৎই বাথরুমের মধ্যে ঝনঝন করে কাঁচ ভেঙে পড়ার আওয়াজ! খড়মড়িয়ে উঠে পড়লো... কি করবে এখন ও!!! দরজাটা খুলবে... নাকি....
- "কে... কে ভেতরে.... কওন হে অম্লর?"
দু-তিনবার একই প্রশ্ন উচ্চারণ করলেও গলা দিয়ে আওয়াজ কতটা জোরে বেরোলো... সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ছাতাটা হাতে নিয়ে দু বার সজোরে বাড়ি মারলো বাথরুমের দরজায়। কোনো আওয়াজ নেই ওপ্রান্তে। তাহলে কি.....
বৃষ্টির আওয়াজকে ছাপিয়ে বুকের মধ্যের ধক ধক আওয়াজটা বেশি জোরে শোনাচ্ছে। থপ করে আবার চেয়ারে বসে পড়েছে রাহুল। আর পারছেনা নিতে উত্তেজনা... মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে যেন যন্ত্রনায়।
হাতঘড়িতে তখনও 4:20 am... ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে কখন! হবেই তো... কাল যা ভিজেছে! বৃষ্টিটা থেমেছে মনে হচ্ছে... হালকা আলো যেইনা ফুটেছে বাইরে, রাহুল আর সময় নষ্ট করলো না এক ফোঁটাও... মালপত্র নিয়ে নেমে এলো নীচে। কাল রাতের মতো একই ভাবে ফাঁকা পরে রয়েছে reception table... কাউকে ডাকাডাকির চক্করেই গেলোনা এবার ও। সোজা মোরামের রাস্তা দিয়ে বড়ো গেট পেরিয়ে বাইরে এসে পেছনে ফিরে তাকাল রাহুল। উফঃ.... বীভৎস সে এক হানাবাড়ি যেন... রাতে কিছুই বোঝেনি ও। সকালের হালকা আলোয় যেটুকু এখান থেকে দেখা যাচ্ছে... একটা অংশ পুরো পুড়ে গেছে বাড়িটার। বাড়ির পেছন দিক থেকে বেরোচ্ছে ধোঁয়ার মতো ওটা কি... এতো বৃষ্টির পরেও... কেমন একটা পোড়া পোড়া গন্ধনা... মড়া পোড়ার গন্ধ যেন শ্মশানে পেয়েছিল সেবার... বড়দাদু মারা যাবার সময়!!!
বড়ো রাস্তা ধরে জোরে জোরে হাঁটা শুরু করলো রাহুল... হাঁপাচ্ছে ... এবার দৌড় শুরু করেছে... ঘেমে নিয়ে একাকার... পা টনটন করছে... তবুও দৌড়োচ্ছে... হঠাৎ পায়ে কি যেন জড়িয়ে গেল ওর। লাথি মেরে সরানোর চেষ্টা করছে পা থেকে জিনিসটা... তবুও যেন ছাড়ছেনা.....
[bangla ghost story 2024]
“আরে ভাইয়া... কেয়া কর রাহাহে... লাখি কিউ মাররাহেহে ভাইয়া... আপকা ইগতপুরী আনে বালাহে অভি... উঠিয়ে... উঠিয়ে জলদি টিটির ধাক্কায় হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠে পড়লো রাহুল। চোখ কচলে বোঝার চেষ্টা করলো ও... ওর সঠিক অবস্থান.... কোথায় আছে ও... কটা বাজে এখন... দিন না রাত? AC কম্পার্টমেন্টের নীলচে রাতবাতির আলোয় হাতঘড়ি উল্টে সময় দেখতে চেষ্টা করলো রাহুল... আর দেখেই ছ্যাৎ করে উঠলো বুকটা ওর... ঘড়িখে তখনও বলছে 4:20 am...
আসা করছি আপনাদের ভালো লাগলো
আরো এই ধরনের গল্প পরতে আমাদের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন : ক্লিক
tag:
ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ভুতের গল্প,
ঘটনাটা কিন্তু মিথ্যে নয় ,
bangla ghost story,
bangla ghost story 2024,
bangla horror story,
Old Story Paper,
old story paper,
bangla horror story,
bangla horror story 2024,
bangla bhuter golpo,
ভুতের গল্প,
,
--------
bangla ghost story,
old story paper,
oldstorypaper,
#oldstorypaper,

